পাখির ভাষা জানা অমর মানুষটি
একদিন তার মনে হলো দম বন্ধ হয়ে আসছে। যে শ্বাস নিতে পারে না, তার কোনও যুক্তি নেই৷ তখন বাতাস জরুরি।
তাই পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের খোঁজে সে বেরিয়ে পড়লো।
তার আগে নিজের ভালোবাসার মানুষকে সন্ত্রস্ত করে গেলো। তার মনে হলো, আমি যেহেতু পারি না, তোমাদেরও নি:শ্বাস নিতে দেব না।
দুনিয়ার পাহাড় অরণ্য বেড়াতে থাকলো সে সাত শো বছর। পাখিদের ভাষা শিখলো। জেনে নিলো ছোটো সব পাখিদের ভাষাজননী এক৷ শিখে নিলো পশুদের ভাষা। জানলো, সিংহ আসলে বিনীত প্রাণী কেন না সে রাজা। রাজা হলে বিনয় লাগে৷ যে জানে শক্তি সহজাত, প্রয়োগ করতে চায় না কখনও৷ মুঠোর চাপে পাতা গুঁড়িয়ে যাবে জানলে প্রকৃত শক্তিধর পাতা উড়িয়ে দেয়৷
সাতশো বছর ফিরে সে দেখলো, কেউ নেই৷ যে স্ত্রীকে ছেড়ে গিয়েছিলো, অপেক্ষায় থেকে থেকে কয়েকশ বছর আগেই বিদায় নিয়েছে। তাদের গ্রামটিও বিলুপ্ত। এখন সেখানে কয়েক হাজার দালান, গাড়িরা উড়ছে, মানুষের ঘড়ির প্রয়োজন ফুরিয়েছে।
এই প্রথম সে ভয় পেলো। সে জানলো, সে কখনও ফুরিয়ে যাবে না৷ ক্ষুধা তৃষ্ণা সে জয় করেছে। সাতশ উনিশ তলার ছাদ থেকে লাফ দিলো একদিন বিকেলে। মাটিতে নেমে এলো যেন পাখির পালক। পারমাণবিক রি অ্যাক্টরের মধ্যে বসে থেকেও তার কিছু হলো না।
অরণ্যে ফিরে গেলো মানুষটি।
পাখিদের ডাকলো।
পাখিরা বললো - তুমি মন্দ লোক
সে বললো - আমার এমন কেন হলো?
পাখিরা বললো - তুমি কখনও অন্যের কথা ভাবোনি। তাই পরম করুণাময় তোমায় অনন্ত জীবন দিয়েছেন৷ এই তোমার শাস্তি। নিজের ভুলের জন্য অনুশোচনায় পার করবে অনন্তকাল।
সে বিশাল এক গাছের নিয়ে ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়লো। সাতশ বছর আগের বউয়ের কথা, বোনের কথা, ভাগ্নের কথা, মা আর বাবার কথা মনে পড়ে যেতে সে ক্ষুধার্ত কুকুরের মতো কান্না করলো। কিন্তু তার চোখ দুটি খটখটে৷ কোন জল নেই।
পাখিরা তখন বলাবলি করছিলো - স্বাভাবিক জীবন হলো সবাই মিলে থাকা। নইলে অনন্ত জীবনের ভার। নরক স্বর্গ দুটোতেই আর জায়গা নেই৷ তাই এখন এখানেই সবার ব্যবস্থা করছেন তিনি৷

